পরমাত্মীয়

“আত্মিক ভালোবাসার গল্প”

অবিশ্বাস্য হলেও অনেকে বিশ্বাস করে মৃত্যুকে নিয়ন্ত্রণ করে অমর হওয়া সম্ভব এবং সম্পদের প্রভাবে প্রতিপত্তিশালী হওয়া যায়। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে যেমন লাভা নির্গত হয়, তদ্রূপ লোভ থেকে লালা নির্গত হয়ে অন্তরকে লোভার্ত করে। লোভে লোভিত এবং প্রলোভনে প্রলোভিত হলে আত্মীয়তা এবং আত্মমর্যাদা নষ্ট হয়। গায়ের জোরে জারিজুরি করে বুদ্ধির জোরে অনেকে অন্যায় অত্যাচার করে। যখন তখন মৃত্যু হবে জেনেও আমরা হত্যা করে হন্তা হই এবং বেঘোরে মৃত্যুকে বরণ করি। অমরত্বের জের ধরে শুরু হলেও উপন্যাসের শেষ হয় মৃত্যুর বার্তা দিয়ে। শাশ্বত সত্য হলো, সদাত্মার সামনে প্রভাবপ্রতিপত্তি একটা শব্দ মাত্র। প্রাকৃতিক শক্তি এবং আত্মিক ভালোবাসার প্রভাবে সদাত্মারা প্রভাবশালী হয়। অভিচারের জন্য দুরাত্মারা পবিত্র মন্ত্রের অপব্যবহার করে। লোভ এবং স্বার্থে আত্মীয়তা নষ্ট হলে তা সুষ্ট করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। 

অধ্যাত্মতত্ত্বে তাত্ত্বিক হতে চেয়ে জেনেছি, পরমাত্মার প্রভাবে আত্মা প্রাণবন্ত এবং পরমাত্মীয়রা রক্তের সাথে সম্পৃক্ত। এসব প্রমাণসিদ্ধ এবং মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী জেনেও অমরত্বে বিশ্বাসী শৌভিক জাদুবলে মায়াবন বানিয়ে তান্ত্রিক সাধনায় আদ্যলীলা করার জন্য বৃহস্পতির বারবেলায় মোহসঞ্চারক তেগ উঁচিয়ে শিষ্যদের উদ্দেশে বললো… “শণ্মাস আগে হতাশ্বাস হলেও অবশেষে পূর্ণগ্রাসে পূর্বাভাস পেয়েছি। মাহেন্দ্রক্ষণে নিরঞ্জনার রক্ত পানে অমর হব।”
অপলকদৃষ্টে তাকিয়ে এক শিষ্য স্বগতোক্তি করে… "পঞ্চামৃতে অত্বর মুত্যু হয় জেনেও তুই মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করার জন্য ঘি মধু খেয়ে মহাসত্ত্ব হয়েছিস।”
শিষ্যের দিকে হিংস্রদৃষ্টে তাকিয়ে শৌভিক বললো... "গুরুহত্যা করে গূঢ়তত্ত্ব জেনেছি। তোদেরকে বশ করে অবশ্য হয়েছি। বেচালে উপরচালাক হতে চাইলে নিতলে পাঠাব।”
শিষ্য আবার স্বগতোক্তি করে… "যদি তুই অমরত্বের অর্থ জানতে, আমি শপৎ করে বলতে পারব মৃত্যুর জন্য তুই সদা প্রস্তুত থাকতে।”
শৌভিক চিৎকার করে বললো… “দৌড়ে যেয়ে নন্দিরগাঁওর নন্দিনীকে নিয়ে আয়। কালক্ষেপে কালান্তর হলে কালান্তক হবে।"
"নির্যাতক মানুষের নির্যাতনে প্রমাণিত হয়েছে, মানুষত্ব শব্দের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ নেই। অন্যায় অত্যাচার হত্যা ধর্ষণ এসব মানুষকৃত বিধায় অমানুষ শব্দকে হিংস্র জীবরাও প্রত্যাখ্যান করেছে। মৃত্যুকে আমরা আন্তরিক ভাবে বিশ্বাস করি না এবং চাইলেই মৃত্যুকে স্পর্শ করা যায় না তবে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়া যায়।" নিম্নকণ্ঠে বলে আদিষ্ট শিষ্য যখন বেরোয় তখন মৌজার রাখালরা গরু নিয়ে নন্দিরগাঁওর গোঠে যায় এবং মাসুম নামের রাখাল বটগাছে হেলান দিয়ে বসে বাঁশি বাজায়। মোহনসুরে সম্মোহিত হয়ে নন্দিরগাঁওর জমিদারের মেয়ে দৌড়ে বেরোলে মা চিৎকার করে ডাকেন, "মালীহা, দাঁড়া।"
পিছন ফিরে না তাকিয়ে মালীহা দৌড়ে বটতলে যেয়ে মাসুমের মুখোমুখি হয়ে বললো... "তোমার ভালোবাসার জন্য নিরাকুল হয়েছি। বাঁশির সুর আমাকে বশ করেছে। ভালোবেসে বিবশ করো।"
মাসুম পিছু হেঁটে হাসার চেষ্ট করে বললো... "আমি এক গরুরাখাল। রাখালি করার জন্য গরু নিয়ে গোঠে এসেছি। ঘাস খেয়ে গরুরা তাজা হলে আমার পাতে ভাত পড়বে।"
"আমাকে ভালোবাসলে গোঠের গরু কিনে দেব।"
এমন সময় শিষ্য অনুশিষ্যরা তাদেরকে আক্রমণ করে এবং আঁধীঝড়ে পরিবেশ সমাচ্ছন্ন হয়। শিষ্য দৌড়ে যেয়ে মালীহার হাত ধরে মাসুমের দিকে তাকিয়ে ব্যস্তকণ্ঠে বললো... "দৌড়ে দিগন্তরপুর যা, চাইলেও আমি তোকে সাহায্য করতে পারব না।"
শিষ্যের দিকে তাকিয়ে মালীহা বললো... "তাকে সাহায্য করো নইলে ঘোর অমঙ্গল হবে।"
"আমি এখন নিয়ন্ত্রিত এবং ওরা আড়ে-হাতে লেগেছে। তোড়-জোড়ে লাভ হবে না। আড়ে-দিঘে দৌড়ালে আমাকেও মেরে ফেলবে। আমাকে বিশ্বাস কর, আমি তোকে সত্যি ভালোবাসি। তোর ভালোবাসার জন্য ভেলকিবাজ হয়েছি। এখন জোরাজুরি করলে অমঙ্গল হবে।"
ওরা যখন কথা বলে অনুশিষ্যরা তখন মাসুমের লাশ বস্তাবন্দি করে নদীর তীরে নিয়ে যায়। বিত্রস্ত মালীহা শিষ্যের হাত ধরে হাঁটতে শুরু করে মায়াবনের প্রবেশপথে প্রবীণ লোককে দেখে চিৎকার করে বললো... "বাবাপির, আমাকে বাঁচাও।"

তারপর পড়ার জন্য ইবই ডাউনলোড করুন

পরমাত্মীয়
“তপস্বিনী সঙ্গিনী হল না”
“নিশিথো জাগিয়া রে বন্ধু তোমারো লাগিয়া”

© Mohammed Abdulhaque

Kathasilpa is an ebook publishing website